বাংলাদেশ জন্ম নিবন্ধন সনদ সম্পূর্ণ গাইড (আবেদন, চেক, যাচাই, ডাউনলোড ও সংশোধন)

Birth certificate check online

আপনার বাংলাদেশ জন্ম নিবন্ধন সনদ শুধু একটি কাগজ নয় — এটি আপনার এনআইডি, পাসপোর্ট, স্কুলে ভর্তি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং একজন নাগরিক হিসেবে আপনার প্রতিটি আইনি অধিকারের চাবিকাঠি। এটি ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা বা সিম কার্ড নেওয়ার মতো সাধারণ কাজও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আপনি একজন নবজাতকের নিবন্ধন করছেন, সার্ভার কপি ডাউনলোড করছেন, নামের ভুল সংশোধন করছেন, অথবা হারানো সনদ পুনরায় সংগ্রহ করছেন — এই সম্পূর্ণ ২০২৬ গাইডে আপনার প্রয়োজনীয় সবকিছু তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আপনি জানতে পারবেন কারা আবেদন করতে পারবেন, সর্বশেষ সরকারি ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বিডিআরআইএস-এর মাধ্যমে অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন, নিবন্ধন কীভাবে যাচাই করবেন, সার্ভার কপি ডাউনলোড করবেন, ভুল সংশোধন করবেন, হারানো সনদ পুনরায় সংগ্রহ করবেন এবং আবেদনের সাধারণ ভুলগুলো কীভাবে এড়াবেন।


Bangladesh Birth Certificate

সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে জন্ম সনদ চেক

আপনি সরকারি যাচাইকরণ পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আপনার বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করতে পারবেন।

জন্ম সনদ চেক করতে যা যা লাগবে

অনলাইনে জন্ম সনদ চেক শুরু করার আগে নিচের তথ্যগুলো হাতের কাছে রাখুন। এজন্য কোনো কাগজপত্র বা টাকা লাগবে না।

যা লাগবেবিস্তারিত
১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর (BRN)আপনার জন্ম সনদে লেখা নম্বর। অবশ্যই পুরো ১৭ ডিজিট হতে হবে
জন্ম তারিখশুধু YYYY-MM-DD (বছর-মাস-দিন) ফরম্যাটে লিখতে হবে
ইন্টারনেট সংযোগসহ মোবাইল বা কম্পিউটারকোনো অ্যাপ লাগবে না, যেকোনো ব্রাউজারেই হবে

আপনার সনদে ১৩, ১৫ বা ১৬ ডিজিটের পুরোনো নম্বর থাকলে অনলাইনে চেক করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে কী করবেন, তা নিচের [পুরোনো নম্বর] অংশে দেখুন।

সরকারি পোর্টালে জন্ম সনদ চেক করার ধাপসমূহ

আপনার জন্ম সনদ সরকারি ডাটাবেজে আছে কি না এবং জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ঠিকভাবে ডিজিটাল করা হয়েছে কি না, তা জানতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

ধাপ ১: BDRIS পোর্টালে যান

ব্রাউজারে everify.bdris.gov.bd লিখে সরকারি জন্ম নিবন্ধন যাচাই পোর্টালে প্রবেশ করুন।

আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সবসময় এই সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করুন। অনানুষ্ঠানিক বা ভুয়া ওয়েবসাইটে জন্ম নিবন্ধন নম্বর দেবেন না।

ধাপ ২: ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর লিখুন

প্রথম ঘরে (Birth Registration Number) জন্ম সনদে যেভাবে লেখা আছে, ঠিক সেভাবে পুরো ১৭ ডিজিটের নম্বরটি লিখুন। মাঝে কোনো স্পেস, ড্যাশ বা বাড়তি চিহ্ন দেবেন না।

নম্বর লেখার সময় কিবোর্ড ইংরেজি সংখ্যায় (123) রাখুন। বাংলা সংখ্যায় (১২৩) লিখলে জন্ম সনদ চেক হবে না।

ধাপ ৩: জন্ম তারিখ লিখুন

দ্বিতীয় ঘরে (Date of Birth) YYYY-MM-DD ফরম্যাটে আপনার জন্ম তারিখ লিখুন।

উদাহরণ:

  • জন্ম ৫ মার্চ ১৯৯৫ হলে লিখুন: 1995-03-05

মাস বা দিন এক অঙ্কের হলে আগে একটি 0 বসান। যেমন: 1995-3-5 নয়, লিখতে হবে 1995-03-05।

জন্ম নিবন্ধনের সময় যে জন্ম তারিখ দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেটিই লিখুন। NID বা পাসপোর্টের তারিখ ভিন্ন হলে সেটি দেবেন না।

ধাপ ৪: ক্যাপচা পূরণ করুন

আপনি যে রোবট নন, তা প্রমাণ করতে ছবিতে দেখানো ছোট অঙ্কটির সঠিক উত্তর লিখুন।

যেমন: “34 + 19 = ?” অথবা “60 − 31 = ?”

উত্তর ভুল হলে বা ছবি পড়া না গেলে রিফ্রেশ আইকনে চেপে নতুন ক্যাপচা নিন।

ধাপ ৫: Search বাটনে ক্লিক করে ফলাফল দেখুন

Search বাটনে ক্লিক করুন।

সব তথ্য সঠিক হলে সাথে সাথে স্ক্রিনে আপনার জন্ম নিবন্ধনের সম্পূর্ণ তথ্য দেখা যাবে।

“No data found” দেখালে বা কোনো তথ্য না এলে নম্বর ও জন্ম তারিখ আবার মিলিয়ে দেখুন। তারপরও সমস্যা থাকলে নিচের [সমস্যা ও সমাধান] অংশটি দেখুন।

QR কোড ব্যবহার করে কীভাবে জন্ম সনদ যাচাই করবেন

নতুন ডিজিটাল জন্ম সনদে একটি QR কোড থাকে, যা স্ক্যান করলে সরাসরি সরকারি যাচাই পোর্টালে যাওয়া যায়।

QR কোড দিয়ে জন্ম সনদ যাচাই করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  • QR কোড খুঁজে বের করুন: সনদে ছাপা QR কোডটি খুঁজুন। সাধারণত এর পাশে একটি বারকোডও থাকে।
  • মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করুন: মোবাইলের ক্যামেরা বা যেকোনো QR স্ক্যানার অ্যাপ খুলে কোডটির দিকে ধরুন। স্ক্যান করলে স্ক্রিনে একটি লিংক দেখাবে।
  • লিংকের ঠিকানা মিলিয়ে নিন: লিংকে ঢোকার আগে দেখে নিন এটি সরকারি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (BDRIS) ওয়েবসাইটের কি না। সঠিক ঠিকানা হলো everify.bdris.gov.bd। লিংক অন্য কোনো ওয়েবসাইটে নিয়ে গেলে বুঝবেন সনদটি সন্দেহজনক, সেখানে কোনো তথ্য দেবেন না।
  • তথ্য মিলিয়ে দেখুন: সরকারি পেজ খোলার পর ওই সনদের নিবন্ধিত তথ্য দেখাবে। নাম, জন্ম তারিখ এবং বাবা-মায়ের নাম হাতের সনদের সাথে মিলিয়ে দেখুন। সব তথ্য মিললে সনদটি বৈধ।

QR কোড কাজ না করলে কী করবেন?

QR কোড নষ্ট হয়ে গেলে, স্ক্যান না হলে বা লিংক না খুললেও চিন্তার কিছু নেই। সরকারি পোর্টাল everify.bdris.gov.bd-এ গিয়ে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর (স্পেস বা ড্যাশ ছাড়া) এবং YYYY-MM-DD ফরম্যাটে জন্ম তারিখ দিয়ে একই তথ্য দেখে নিতে পারবেন।

পুরোনো বা হাতে লেখা সনদে QR কোড না-ও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রেও এই নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়েই অনলাইনে জন্ম সনদ চেক করুন।

কারা অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন?

যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারেন। নিচের সারণিতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কারা আবেদন করতে পারবেন তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আবেদনকারীর ধরন

কারা আবেদন করতে পারবেন / বিস্তারিত

নবজাতক (৪৫ দিনের মধ্যে)

পিতামাতা বা আইনগত অভিভাবক আবেদন করবেন। জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করলে তা সম্পূর্ণ ফ্রি।

শিশু (৪৫ দিন থেকে ৫ বছর)

পিতামাতা বা আইনগত অভিভাবক আবেদন করবেন। নিবন্ধন ফি ৳২৫।

শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক (৫ বছরের বেশি)

আবেদনকারী নিজে অথবা পিতামাতা বা আইনগত অভিভাবকের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। নিবন্ধন ফি ৳৫০।

নিজের সনদের জন্য আবেদনকারী প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি

BDRIS পোর্টালে আবেদন জমা দেওয়ার সময় “নিজ” (Self) নির্বাচন করতে হবে।

পিতামাতা, অভিভাবক, বা অনুমোদিত আত্মীয়

অন্য কারো পক্ষে আবেদন করলে “অন্যান্য” (Others) নির্বাচন করতে হবে। আবেদনকারীকে নিজের BRN প্রদান করতে হবে।

২০১৩ সালের পর জন্ম নেওয়া শিশু

শিশুর জন্ম নিবন্ধনের সময় পিতামাতা উভয়ের BRN বাধ্যতামূলক।

২০১৩ সালের আগে জন্ম নেওয়া শিশু

নিবন্ধনের জন্য পিতামাতার BRN প্রয়োজন নেই।

যমজ বা একাধিক সন্তান

প্রতিটি শিশুর জন্য আলাদাভাবে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন জমা দিতে হবে।

বিদেশে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি নাগরিক

নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। সাধারণত নিবন্ধিত ইমেইল ঠিকানায় পাঠানো OTP-এর মাধ্যমে যাচাই সম্পন্ন হয়।

সকল নাগরিক

ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জন্ম নিবন্ধন একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা।

দ্রষ্টব্য: আবেদনকারীর বয়স, জন্মস্থান এবং নিবন্ধকের প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব বা প্রত্যাখ্যান এড়াতে সবসময় সঠিক তথ্য ও সহায়ক কাগজপত্র প্রদান করুন।


বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য বয়সভিত্তিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদনের আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার কাছে প্রয়োজনীয় সহায়ক কাগজপত্র রয়েছে। আবেদনকারীর বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে।

Child (0–45 Days Old)

শিশু (০–৪৫ দিন বয়সী)

EPI টিকা কার্ড অথবা হাসপাতালের জন্ম সনদ
বাড়ি বা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ (ঠিকানার প্রমাণ)
পিতামাতার সচল মোবাইল নম্বর
পিতামাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ (ঐচ্ছিক তবে সুপারিশকৃত)

শিশু (৪৬ দিন–৫ বছর বয়সী)

EPI টিকা কার্ড অথবা হাসপাতালের জন্ম সনদ
বাড়ি বা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ
পিতামাতার উভয়ের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
পিতামাতার সচল মোবাইল নম্বর

Applicant Over 5 Years Old

৫ বছরের বেশি বয়সী আবেদনকারী

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) স্বীকৃত নিবন্ধিত সরকারি এমবিবিএস ডাক্তার কর্তৃক ইস্যুকৃত বয়স সনদ
জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের পাবলিক পরীক্ষার সনদ (যদি থাকে)
পিতামাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) কপি
ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বাড়ি বা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ
পিতামাতা বা অভিভাবকের সচল মোবাইল নম্বর

দ্রষ্টব্য: শিশু যদি ২০১৩ সালের পর জন্মগ্রহণ করে, তাহলে পিতামাতার জন্ম নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। শিশু যদি ২০১৩ সালের আগে জন্মগ্রহণ করে, তাহলে পিতামাতার জন্ম নিবন্ধন থাকা প্রয়োজন নেই।

File Upload Requirements

অনলাইন জন্ম নিবন্ধন পোর্টালের মাধ্যমে সহায়ক কাগজপত্র আপলোড করার সময়, প্রতিটি ফাইল নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করছে কিনা তা নিশ্চিত করুন:

বাংলাদেশ জন্ম নিবন্ধন সনদ ফি ২০২৬ (সরকারি)

#

সেবা

১

জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন

২

জন্মের ৪৫ দিন পর কিন্তু ৫ বছরের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন

৩

জন্মের ৫ বছর পর জন্ম নিবন্ধন (বিলম্বিত নিবন্ধন)

৪

জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি ফি

৫

জন্ম তারিখ, পিতার নাম, মাতার নাম, বা ঠিকানা সংশোধন

৬

অন্য যেকোনো তথ্য সংশোধন

৭

সংশোধনের পর সনদের বাংলা ও ইংরেজি কপি

৮

সনদের বাংলা ও ইংরেজি কপি

৯

জাতীয় ডেটাবেসে পাওয়া ভুল তথ্যের সংশোধন

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন ফি কীভাবে পরিশোধ করবেন?

ধাপ ১

অফিসিয়াল e-Payment পোর্টালে যান:
eservices.bdris.gov.bd

ধাপ ২

e-Payment অপশনে ক্লিক করে আপনার আবেদনের তথ্য (যেমন অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা BRN) দিয়ে সার্চ করুন

ধাপ ৩

আবেদনকারীর তথ্য সতর্কতার সাথে যাচাই করে স্বয়ংক্রিয় ইনভয়েস সিস্টেমে এগিয়ে যান।

ধাপ ৪

আপনার পছন্দের পেমেন্ট গেটওয়ে নির্বাচন করে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।

ধাপ ৫

সফলভাবে পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর একটি চালান ফরম ইস্যু করা হবে।

ধাপ ৬

চালান প্রিন্ট করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা অফিসে জমা দিন।

চালান প্রিন্ট করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা অফিসে জমা দিন।

নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন?

আপনি অফিসিয়াল BDRIS পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন সম্পন্ন করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

ধাপ ১: অফিসিয়াল BDRIS ওয়েবসাইটে যান

ব্রাউজার খুলে https://bdris.gov.bd/-এ যান। উপরের মেনু থেকে “জন্ম নিবন্ধন” অপশনে ক্লিক করুন। একটি ড্রপডাউন মেনু আসবে, সেখান থেকে “Birth Registration Application”-এ ক্লিক করে আবেদন শুরু করুন।

ধাপ ২: নিবন্ধনের স্থান নির্বাচন করুন

আপনাকে জন্ম নিবন্ধনের স্থান নির্বাচন করতে বলা হবে। যেহেতু আপনি এই ঠিকানা থেকেই সনদ সংগ্রহ করবেন, তাই স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে হবে। যদি আপনি বাংলাদেশের বাইরে থেকে বাংলাদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করেন, তাহলে দূতাবাসের চেকবক্সে টিক দিন। এরপর “Next”-এ ক্লিক করে এগিয়ে যান।

ধাপ ৩: শিশুর ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করুন

নিচের তথ্যগুলো প্রদান করুন:

  • বাংলা ও ইংরেজিতে নাম
  • জন্ম তারিখ, জন্মক্রম, লিঙ্গ এবং সম্পূর্ণ জন্মস্থান

জন্মস্থানের ঠিকানা নির্দিষ্ট ক্রমে প্রদান করতে হবে: দেশ → বিভাগ → জেলা → সিটি কর্পোরেশন/ক্যান্টনমেন্ট/উপজেলা → পৌরসভা/ইউনিয়ন → ওয়ার্ড → ডাকঘর → গ্রাম/এলাকা/মহল্লা → বাড়ি ও রাস্তা।

গুরুত্বপূর্ণ: জন্ম তারিখ প্রদান করার সময় একটি পপ-আপ প্রদর্শিত হবে, যেখানে শিশুর বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেখানো হবে। এখানে দুটি বাটন প্রদর্শিত হবে

  • এই কাগজপত্র আমার কাছে আছে” → এগিয়ে যান
  • এই কাগজপত্র আমার কাছে নেই” → আপনি এগিয়ে যেতে পারবেন না — প্রথমে সব কাগজপত্র সংগ্রহ করুন

ধাপ ৪: পিতামাতার তথ্য প্রদান করুন

পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্ম তারিখ, বাংলা ও ইংরেজিতে নাম এবং জাতীয়তা প্রদান করুন। প্রত্যেক পিতামাতার ইংরেজি নাম প্রদানের পর BDRIS ডেটাবেসে তথ্য যাচাই করতে “Verify” বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৫: স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা প্রদান করুন

নিবন্ধনকারীর স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করুন। বর্তমান ঠিকানা যদি স্থায়ী ঠিকানা থেকে ভিন্ন হয়, তাহলে আবেদন ফরমে উল্লেখিত অনুযায়ী উভয় ঠিকানা প্রদান করুন।

ধাপ ৬: আবেদনকারীর তথ্য প্রদান করুন

আবেদনকারী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এই আবেদনটি জমা দিচ্ছেন। নিবন্ধনকারীর সাথে আপনার সম্পর্ক নির্বাচন করুন।

  • নিজ” (Self) — যদি নিজের জন্য আবেদন করেন
  • অন্যান্য” (Others) — যদি অন্য কেউ আবেদন করেন (আবেদনকারীর BRN প্রদান করুন)

ঘোষণার চেকবক্সে টিক দিন, যা নিশ্চিত করে যে:

  • প্রদত্ত সকল তথ্য সঠিক
  • এই ব্যক্তির জন্য পূর্বে কোনো জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি, এরপর “Next”-এ ক্লিক করুন।

ধাপ ৭: সহায়ক কাগজপত্র আপলোড করুন

জন্ম তারিখ এবং স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন।

ধাপ ৮: সকল তথ্য পর্যালোচনা করুন

আবেদন জমা দেওয়ার আগে নাম, তারিখ, ঠিকানা এবং আপলোডকৃত কাগজপত্র সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করুন।

ধাপ ৯: OTP যাচাই ও জমা প্রদান

  • আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রদান করুন
  • একটি সচল মোবাইল ফোন নম্বর প্রদান করুন
  • “Send OTP” বাটনে ক্লিক করুন
  • বাংলাদেশ থেকে আবেদনের ক্ষেত্রে → আপনার মোবাইল নম্বরে OTP পাঠানো হবে
  • বিদেশ থেকে (দূতাবাসের মাধ্যমে) আবেদনের ক্ষেত্রে → আপনার ইমেইল ঠিকানায় OTP পাঠানো হবে
  • “OTP” প্রাপ্তির পর তা প্রদান করে “Submit” বাটনে ক্লিক করুন

ধাপ ১০: আপনার আবেদন আইডি সংরক্ষণ করুন

সফলভাবে জমা দেওয়ার পর একটি সাফল্য বার্তা প্রদর্শিত হবে, যেখানে আপনার Application ID থাকবে। এই আইডি আপনার মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানায় এসএমএসের মাধ্যমেও পাঠানো হবে। এই Application ID টি অবিলম্বে সংরক্ষণ করুন!

এটি আপনার প্রয়োজন হবে:

  • আবেদনের অবস্থা ট্র্যাক করতে
  • আপনার ফিজিক্যাল সনদ সংগ্রহ করতে
  • প্রয়োজনে যেকোনো সংশোধন করতে

ধাপ ১১: আবেদনপত্র প্রিন্ট করুন ও স্থানীয় অফিসে যান

“Print” বাটনে ক্লিক করে আবেদনপত্র প্রিন্ট করুন। প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করুন। স্ক্রিনে প্রদর্শিত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপনার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন অফিসে — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, বা ক্যান্টনমেন্ট — যান।

সময়সীমা: অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আপনাকে স্থানীয় অফিসে যেতে হবে। তা না হলে আপনার আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

নিবন্ধন সহকারী ও নিবন্ধক আপনার সকল কাগজপত্র যাচাই করবেন। সবকিছু সঠিক থাকলে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হবে।

আপনি কি জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করতে চান? আমাদের বাংলাদেশ জন্ম নিবন্ধন অনলাইন আবেদন ২০২৬ গাইডে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যোগ্যতা, ফি এবং সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

স্ট্যাটাসের অর্থ কী?

অবস্থা

অর্থ

জমা দেওয়া হয়েছে

আপনার আবেদনটি সফলভাবে গৃহীত হয়েছে।

পর্যালোচনাধীন

নিবন্ধন সহকারী আপনার কাগজপত্র যাচাই করছেন।

অনুমোদিত

আপনার সনদটি সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত।

প্রত্যাখ্যাত

একটি সমস্যা রয়েছে — বিস্তারিত জানতে আপনার স্থানীয় অফিসে যান।

বাতিল

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদনটি সংগ্রহ করা হয়নি।

বাংলাদেশে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ কীভাবে চেক বা যাচাই করবেন?

আপনি কি জানতে চান আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ BDRIS সিস্টেমে নিবন্ধিত আছে কিনা, অথবা এটি এখন ডিজিটালভাবে পাওয়া যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে চান?

  • অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন পোর্টালে যান: everify.bdris.gov.bd
  • আপনার ১৭-সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর প্রদান করুন: “Birth Registration Number” লেখা প্রথম ফিল্ডে আপনার ১৭-সংখ্যার নম্বরটি প্রদান করুন। শুধুমাত্র ইংরেজি সংখ্যা ব্যবহার করুন — কোনো স্পেস, ড্যাশ বা বাংলা সংখ্যা নয়।
  • আপনার জন্ম তারিখ প্রদান করুন: YYYY-MM-DD ফরম্যাটে আপনার জন্ম তারিখ প্রদান করুন (যেমন, 2005-01-15)
  • CAPTCHA সমাধান করুন
  • Search-এ ক্লিক করুন: Search বাটনে ক্লিক করুন। আপনার তথ্য সঠিক হলে এবং জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাইজড থাকলে, আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের বিবরণ স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে।


মোবাইলে জন্ম নিবন্ধন সনদ কীভাবে চেক করবেন?

আপনার কোনো মোবাইল অ্যাপ ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই। অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন পোর্টালটি যেকোনো স্মার্টফোন ব্রাউজারে কাজ করে।

  • আপনার মোবাইল ব্রাউজার (Chrome, Firefox, বা যেকোনো ব্রাউজার) খুলুন।
  • যান everify.bdris.gov.bd.
  • উপরে উল্লেখিত একই ধাপ অনুসরণ করুন।

পোর্টালটি মোবাইল-রেসপন্সিভ এবং সকল স্মার্টফোনে কাজ করে।

আপনার জন্ম নিবন্ধন রেকর্ডটি বিদ্যমান কিনা তা নিশ্চিত করতে চান? অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ চেক ও যাচাই করার আমাদের সম্পূর্ণ গাইড অনুসরণ করুন।

যদি আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদর্শিত না হয়, তাহলে কী করবেন?

যদি আপনি অনলাইনে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ খুঁজে না পান, তাহলে চিন্তার কারণ নেই। এই সমস্যাটি সাধারণত ভুল তথ্য, ডিজিটাইজড না হওয়া রেকর্ড, অথবা নিবন্ধনের তথ্যে অসামঞ্জস্যতার কারণে ঘটে থাকে।

বিষয়

সম্ভাব্য কারণ

কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি

জন্মের নথিটি এখনও ডিজিটাইজ করা হয়নি, অথবা নথিবদ্ধ তথ্যের সাথে সরকারি রেকর্ডের মিল নেই।

ভুল জন্ম নিবন্ধন নম্বর (BRN)

১৭-সংখ্যার বিআরএন (BRN) ভুলভাবে প্রবেশ করানো হয়েছিল।

জন্ম তারিখের বিন্যাসটি সঠিক নয়

জন্মের তারিখটি ভুল বিন্যাসে నమోదు করা হয়েছিল।

পুরানো কাগজ-ভিত্তিক জন্ম সনদ

জন্মসংক্রান্ত পুরোনো নথিপত্র হয়তো এখনও অনলাইন ডেটাবেসে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ (PDF কপি) কীভাবে ডাউনলোড করবেন?

একবার আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ অফিসিয়াল BDRIS পোর্টালের মাধ্যমে সফলভাবে যাচাই হয়ে গেলে, আপনি এটি আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসে ডিজিটাল PDF কপি হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। আপনার পছন্দের ডিভাইস অনুযায়ী নিচের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

কম্পিউটারে জন্ম নিবন্ধন সনদ কীভাবে ডাউনলোড করবেন?

  • প্রথমে পূর্ববর্তী সেকশনে উল্লেখিত ধাপ অনুসরণ করে আপনার জন্ম নিবন্ধন যাচাই করুন।
  • সনদের তথ্য স্ক্রিনে প্রদর্শিত হওয়ার পর, আপনার কিবোর্ডে Ctrl + P চাপুন।
  • প্রদর্শিত প্রিন্ট উইন্ডোতে, ডেস্টিনেশন/প্রিন্টার পরিবর্তন করে “Save as PDF” নির্বাচন করুন।
  • Save-এ ক্লিক করে আপনার কম্পিউটারে ফাইলটি কোথায় সংরক্ষণ করবেন তা নির্বাচন করুন।
  • আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের সার্ভার কপি এখন PDF হিসেবে ডাউনলোড হয়ে গেছে।
How to Download Birth Certificate on Computer
How to Download Birth Certificate on Mobile

মোবাইলে জন্ম নিবন্ধন সনদ কীভাবে ডাউনলোড করবেন?

  • আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই ও প্রদর্শনের পর, মোবাইল ব্রাউজারের উপরের ডান কোণে থাকা তিন-ডট মেনুতে (⋮) ট্যাপ করুন।
  • “Share” অথবা “Print” নির্বাচন করুন।
  • প্রিন্টার ডেস্টিনেশন হিসেবে “Save as PDF” নির্বাচন করুন।
  • ফাইলটি আপনার ফোনে সংরক্ষণ করুন।
  • সংরক্ষিত PDF ফাইলটি খুলে যেকোনো প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট করতে পারবেন, যদি আপনার একটি প্রিন্টেড কপি প্রয়োজন হয়।

১৬-সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বরকে কীভাবে ১৭-সংখ্যায় রূপান্তর করবেন?

পুরাতন জন্ম নিবন্ধন সনদে ১৬-সংখ্যার BRN থাকতে পারে। অনলাইনে এই রেকর্ডগুলো যাচাই করতে, নম্বরটি ১৭-সংখ্যার ফরম্যাটে রূপান্তর করতে হবে।

রূপান্তর বিধি

আপনার ১৬-সংখ্যার BRN-এর শেষ ৫টি সংখ্যার আগে একটি শূন্য (০) যুক্ত করুন। উদাহরণ

১৬-সংখ্যার বিআরএন (BRN)

রূপান্তরিত ১৭-সংখ্যার বিআরএন (BRN)

1997191757112716

1997191757110 2716

সম্ভাব্য ডুপ্লিকেট সমস্যা — এর মানে কী এবং কীভাবে সমাধান করবেন?

সম্ভাব্য ডুপ্লিকেট” বার্তাটি জন্ম নিবন্ধন তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে প্রদর্শিত হয় যখন সিস্টেম আবেদনকারীর নাম, পিতার নাম এবং মাতার নামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি বিদ্যমান জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড খুঁজে পায়।

নিচের তথ্যগুলো মিলে গেলেই একটি রেকর্ডকে নিশ্চিত ডুপ্লিকেট বলে গণ্য করা হয়:

  • আবেদনকারীর নাম
  • বাবার নাম
  • মায়ের নাম
  • নিবন্ধন কার্যালয়
  • জন্ম তারিখ

যদি তথ্যগুলো ভিন্ন ব্যক্তির হয়, তাহলে আবেদনকারীকে যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। একই জেলার ক্ষেত্রে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারেন। ভিন্ন জেলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে যাচাই প্রয়োজন হবে।

আবেদনকারীকে একটি লিখিত ঘোষণাপত্র প্রদান করতে হতে পারে, যেখানে নিশ্চিত করা হবে যে তার জন্ম অন্য কোথাও নিবন্ধিত হয়নি।

বাংলাদেশে বিশেষ জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত ক্ষেত্র

সাধারণত সকল জন্ম নিবন্ধন একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, তবে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। নিচে এমন কিছু সাধারণ কিন্তু ভিন্ন ধরনের ক্ষেত্রে কী করতে হবে তা তুলে ধরা হয়েছে:

যমজ সন্তানের জন্ম নিবন্ধন

যমজ সন্তানের ক্ষেত্রে, প্রতিটি শিশুর জন্য আলাদাভাবে জন্ম নিবন্ধন আবেদন জমা দিতে হবে। প্রথম নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর দ্বিতীয় নিবন্ধন শুরু করুন, উভয় আবেদনের জন্য একই অনলাইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।

BDRIS ম্যানুয়ালে বলা হয়েছে: “একটি নিবন্ধন সম্পন্ন করুন, তারপর একই ধাপ অনুসরণ করে অবিলম্বে দ্বিতীয়টির জন্য আবেদন করুন।”

Birth Registration for Twins
Birth Registration if One Parent is a Foreigner

পিতা বা মাতা বিদেশি হলে জন্ম নিবন্ধন

এই অনুচ্ছেদটি আগে দেওয়া “যমজ সন্তানের জন্ম নিবন্ধন” অনুচ্ছেদের সাথে একই — মনে হচ্ছে এখানে ভুলবশত সেটাই আবার পেস্ট হয়ে গেছে।

“পিতা বা মাতা বিদেশি হলে জন্ম নিবন্ধন” H3-এর জন্য সঠিক ইংরেজি কনটেন্টটি পাঠাবেন?

পিতামাতার বিবাহবিচ্ছেদ হলে বা একজন পিতা/মাতা অনুপস্থিত থাকলে জন্ম নিবন্ধন

যদি পিতামাতার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে থাকে বা একজন পিতা/মাতা অনুপস্থিত বা উপস্থিত না থাকেন, তাহলে শুধুমাত্র একজন পিতা/মাতার তথ্য প্রদান করে শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা যাবে, এবং ফরমে অন্য পিতা/মাতার নাম উল্লেখ করতে হবে।

Birth Registration if Parents are Divorced or One Parent is Absent
Birth Registration for a Married Woman

বিবাহিত নারীর জন্ম নিবন্ধন

এই লাইনটিও আগের অনুচ্ছেদের সাথে একই এসেছে — মনে হচ্ছে “বিবাহিত নারীর জন্ম নিবন্ধন” এর জন্য ভুল টেক্সট পেস্ট হয়ে গেছে।

সঠিক ইংরেজি কনটেন্টটি পাঠাবেন?

গুরুত্বপূর্ণ: জন্ম নিবন্ধন সনদে শুধুমাত্র পিতা ও মাতার নাম লিপিবদ্ধ থাকে। এখানে স্বামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বিধান নেই।

কারাগারে জন্ম নেওয়া বা পরিত্যক্ত শিশুর জন্ম নিবন্ধন

কারাগারে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে, জেল সুপার বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিবন্ধকের কাছে জন্মের তথ্য প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন। পরিত্যক্ত শিশুর ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তথ্য প্রদান করেন।

Birth Registration for Children Born in Prison or Abandoned Children

এড়িয়ে যাওয়ার মতো সাধারণ ভুলসমূহ

আপনার জন্ম নিবন্ধন আবেদনে বিলম্ব বা প্রত্যাখ্যান এড়াতে, নিচের সাধারণ ভুলগুলো মনে রাখুন:

  • ফরমে নির্দিষ্টভাবে অনুমোদিত না থাকলে ডট (.), হাইফেন (-), কোলন (:), বা অন্য কোনো বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করবেন না।
  • “MD.” এর পরিবর্তে “MD” লিখুন, কারণ নামের ফিল্ডে যতিচিহ্ন গ্রহণযোগ্য নয়।
  • আবেদনকারী ও পিতামাতার নাম যেন তাদের অফিসিয়াল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ডের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়, তা নিশ্চিত করুন।
  • প্রতিটি প্রয়োজনীয় ফিল্ডের বাংলা ও ইংরেজি — দুটি সংস্করণই পূরণ করুন।
  • গ্রহণযোগ্য ফরম্যাটে সহায়ক কাগজপত্র আপলোড করুন এবং প্রতিটি ফাইল ২ এমবি বা তার কম আকারের কিনা নিশ্চিত করুন।
  • যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় OTP পাওয়ার জন্য আপনার মোবাইল নম্বর সঠিক কিনা দ্বিতীয়বার যাচাই করুন।
  • জমা দেওয়ার আগে সকল তথ্য সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করুন, কারণ জমা দেওয়ার পর তা সম্পাদনা করা সম্ভব নয়।
  • অনলাইনে জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন অফিসে জমা দিন।
  • নিবন্ধক নির্দিষ্টভাবে মূল কপি দেখতে না চাইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি জমা দিন।
  • সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়াকৃত হলে, বিলম্ব এড়াতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করুন।

বাংলাদেশে নির্বিঘ্নে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করার টিপস

বিলম্ব এড়িয়ে সফলভাবে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করতে নিচের কার্যকর টিপসগুলো অনুসরণ করুন:

  • জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করুন: এই সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পূর্ণ ফ্রি এবং সাধারণত কম কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়।
  • আবেদন শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন: কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে আপনি বিনা বিরতিতে অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।
  • আপনার সম্পূর্ণ আইনগত নাম ব্যবহার করুন: যাচাইয়ের সমস্যা এড়াতে আবেদনকারী ও পিতামাতার নাম তাদের অফিসিয়াল রেকর্ডের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলিয়ে দিন।
  • ইংরেজি সংখ্যা (123) ব্যবহার করুন নম্বর প্রদানের সময়: BRN এবং তারিখ ইংরেজি সংখ্যায় প্রদান করতে হবে, কারণ বাংলা সংখ্যা BDRIS সিস্টেমে গ্রহণযোগ্য নয়।
  • সঠিক ফরম্যাটে কাগজপত্র আপলোড করুন: শুধুমাত্র .jpg, .jpeg, এবং .png ফাইল গ্রহণযোগ্য, এবং প্রতিটি ফাইলের আকার ২ এমবি বা তার কম হতে হবে।
  • জমা দেওয়ার আগে আপনার আবেদন সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করুন: একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর তা অনলাইনে সম্পাদনা করা সম্ভব নয়।
  • আপনার Application ID নিরাপদে সংরক্ষণ করুন: আবেদন ট্র্যাক করতে, সনদ সংগ্রহ করতে এবং ভবিষ্যতে সংশোধন বা পুনঃমুদ্রণের মতো কোনো প্রয়োজনে এটি আপনার প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে কত সময় লাগে?

বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন সনদ পেতে কত সময় লাগবে তা নির্ভর করে আপনি কোথায় আবেদন করছেন এবং আপনার কাগজপত্র কতটা সম্পূর্ণ তার উপর।

অফিসের ধরন অনুযায়ী একটি সাধারণ সময়সীমা নিচে দেওয়া হলো:

#

নিবন্ধন কার্যালয়

১

ইউনিয়ন পরিষদ

২

পৌরসভা

৩

সিটি কর্পোরেশন

৪

ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড

৫

অসম্পূর্ণ বা ভুল আবেদন

গুরুত্বপূর্ণ: আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুমোদিত হওয়ার পর, ১৫ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করুন। এই সময়ের মধ্যে সনদ সংগ্রহ না করলে আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং আপনাকে নতুন করে আবেদন জমা দিতে হতে পারে।

যোগাযোগ ও হেল্পলাইন — বাংলাদেশ জন্ম নিবন্ধন সনদ

বিস্তারিত

তথ্য

অফিসের নাম

নিবন্ধক জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন

ঠিকানা

Paribahan Pool Building, 9th Floor, Bangladesh Secretariat, Dhaka, Bangladesh.

মন্ত্রণালয়ের অধীনে

স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

www.orgbdr.gov.bd

বিডিআরআইএস (BDRIS) পোর্টাল

www.bdris.gov.bd

যাচাইকরণ পোর্টাল

https://everify.bdris.gov.bd

প্রতিষ্ঠিত

2013

📞 হেল্পলাইন ও সহায়তা

ধরন

বিস্তারিত

কল সেন্টার

16152

অনলাইন আবেদন

https://bdris.gov.bd

জন্ম সনদ যাচাইকরণ

https://everify.bdris.gov.bd

ফেসবুক পেজ

orgbdr.gov.bd-এর মাধ্যমে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি পাওয়া যাবে।

স্থানীয় সমস্যার জন্য — আপনার নিকটস্থ অফিসে যোগাযোগ করুন

এলাকার ধরন

কোথায় যাবেন

গ্রাম/গ্রামীণ এলাকা

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়

ছোট শহর

পৌরসভা কার্যালয়

প্রধান শহর

সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়

সামরিক এলাকা

ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কার্যালয়

বিদেশে জন্ম

নিকটতম বাংলাদেশ দূতাবাস

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

সার্ভার কপি হলো everify.bdris.gov.bd থেকে ডাউনলোডকৃত আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের অনলাইন সংস্করণ। এটি মূল সনদের সমান নয়। মূল সনদে ইউনিয়ন সচিব ও চেয়ারম্যানের সিল ও স্বাক্ষর থাকে এবং এটি শুধুমাত্র স্থানীয় নিবন্ধন অফিস থেকে সংগ্রহ করা যায়।

না। অনলাইন যাচাইয়ের জন্য ১৭-সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ — উভয়টিই প্রয়োজন। সাধারণ জনগণের জন্য অনলাইনে নাম দিয়ে খোঁজার সুবিধা নেই।

হ্যাঁ। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যেকোনো বাংলাদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। ফি USD 1 (৪৫ দিন পর নিবন্ধনের ক্ষেত্রে)। দূতাবাসের আবেদনের জন্য OTP মোবাইলে নয়, বরং আপনার ইমেইল ঠিকানায় পাঠানো হয়।

সকল আবেদন ও সেবার জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলো bdris.gov.bd। অনলাইন যাচাই ও ডাউনলোডের জন্য everify.bdris.gov.bd ব্যবহার করুন।

জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সম্পূর্ণ ফ্রি। ৪৬ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে নিবন্ধনের খরচ ৳২৫। ৫ বছর পর নিবন্ধনের খরচ ৳৫০। সনদের একটি কপির খরচ ৳৫০। জন্ম তারিখ, পিতা/মাতার নাম, বা ঠিকানা সংশোধনের খরচ ৳১০০।

অনলাইনে আবেদন ও কাগজপত্র স্থানীয় অফিসে জমা দেওয়ার পর, সনদটি সাধারণত ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যায়।

হ্যাঁ। everify.bdris.gov.bd-এ অনলাইন যাচাই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সর্বোচ্চ ৬ বার সংশোধন করা যায়। ৬ বার সংশোধনের পর অনলাইনে আর কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। একাধিক সংশোধন একটি আবেদনেই একত্রে জমা দিন।

হ্যাঁ, তবে শুধুমাত্র ২০১৩ সালের পর জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে। ২০১৩ সালের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে পিতামাতার জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন নেই।

শুধুমাত্র .jpg, .jpeg, এবং .png ফরম্যাট গ্রহণযোগ্য। PDF ফাইল গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি ফাইলের সর্বোচ্চ আকার ২ এমবি।

যদি আপনি ১৫ দিনের মধ্যে আপনার প্রিন্টেড আবেদনপত্র ও কাগজপত্র স্থানীয় নিবন্ধন অফিসে জমা না দেন, তাহলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। আপনাকে আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, নিবন্ধন সংক্রান্ত নিয়ম মেনে না চললে সর্বোচ্চ ৳৫,০০০ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া, একই ব্যক্তির একাধিকবার নিবন্ধন করা ধারা ২১ অনুযায়ী ৳৫০০ জরিমানা অথবা ২ মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয়ই দণ্ডনীয়।

প্রথমে আপনার ১৭-সংখ্যার নম্বর এবং জন্ম তারিখের ফরম্যাট (YYYY-MM-DD) পুনরায় যাচাই করুন। তথ্য সঠিক থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ফলাফল না আসে, তাহলে আপনার সনদটি ডিজিটাইজড নাও হতে পারে। এটি ডিজিটাইজড করাতে আপনার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, বা সিটি কর্পোরেশন অফিসে যান।

UBRN এর পূর্ণরূপ হলো Unique Birth Registration Number (অনন্য জন্ম নিবন্ধন নম্বর) — এটি BDRIS ডেটাবেসে প্রতিটি নিবন্ধিত ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত ১৭-সংখ্যার নম্বর। প্রথম ৪টি সংখ্যা জন্মসালকে নির্দেশ করে।

আপনার ১৬-সংখ্যার নম্বরের শেষ ৫টি সংখ্যার আগে একটি শূন্য (০) যুক্ত করুন। তবে ভুল এড়াতে সবসময় আপনার স্থানীয় নিবন্ধন অফিসের সাথে সঠিক ১৭-সংখ্যার নম্বরটি নিশ্চিত করে নিন।

হ্যাঁ। পিতামাতার বিবাহবিচ্ছেদ হলে বা একজন পিতা/মাতা অনুপস্থিত থাকলে, একজন পিতা/মাতার তথ্য প্রদান করে এবং অন্য পিতা/মাতার নাম উল্লেখ করে শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা যাবে।

হ্যাঁ। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, বিবাহিত নারীর বিলম্বিত জন্ম নিবন্ধন তার স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় করা যাবে। তবে সনদে শুধুমাত্র পিতা ও মাতার নাম উল্লেখ থাকে — স্বামীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

BDRIS সিস্টেমে একটি মোবাইল নম্বর সর্বোচ্চ ৫টি জন্ম নিবন্ধনের সাথে যুক্ত করা যাবে। ৫ জনের বেশি সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।

উভয় শিশুর জন্য একই অনলাইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একের পর এক আবেদন করুন। একটি নিবন্ধন সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন করার পর, অবিলম্বে দ্বিতীয় আবেদনটি শুরু করুন।

bdris.gov.bd সকল আবেদনের (নতুন নিবন্ধন, সংশোধন, পুনঃমুদ্রণ) জন্য ব্যবহৃত হয়। everify.bdris.gov.bd শুধুমাত্র যাচাই ও সার্ভার কপি ডাউনলোডের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উপসংহার

জন্ম নিবন্ধন সনদ শুধু একটি কাগজ নয় — এটি একজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রতিটি আইনগত অধিকার প্রয়োগের ভিত্তি। আপনি একজন নবজাতকের নিবন্ধন করছেন, পুরাতন কোনো ভুল সংশোধন করছেন, অথবা হারানো সনদ পুনরায় সংগ্রহ করছেন — এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এখন bdris.gov.bd এবং everify.bdris.gov.bd-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করুন, দুই-শব্দের নাম ব্যবহার করুন, শুরু করার আগে সকল কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন, এবং Submit-এ ক্লিক করার আগে প্রতিটি তথ্য পর্যালোচনা করুন — কারণ একবার জমা দেওয়ার পর আবেদনটি সম্পাদনা করা সম্ভব নয়।

সর্বোত্তম অভিজ্ঞতার জন্য অনলাইন আবেদন পদ্ধতি ব্যবহার করুন। এটি সময় বাঁচায়, খরচ কমায়, এবং প্রথম দিন থেকেই আপনার তথ্য জাতীয় BDRIS ডেটাবেসে নির্ভুলভাবে সংরক্ষিত হওয়া নিশ্চিত করে।